ভারত তো বটেই বিশ্বের বণিক জগতের ইতিহাসে রতন টাটা সত্যিই একজন ‘রত্ন’। ধনকুবের বিশ্বে হয়তো অনেক আছে, কিন্তু
এমন জনহিতৈষী ধনকুবের একজনই তিনি রতন টাটা। গত সোমবার কাক-ভোরে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। বয়সজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি রুটিন চেক-আপ করারও কথা ছিল। আস্তে আস্তে অবনতি হতে থাকে শারীরিক অবস্থার। তাঁকে রাখা হয় ইনটেনসিভ কেয়ারে। বুধবার দুপুরের পর থেকে অনেকটা অবনতি শুরু হয়। রাতেই সব শেষ। সমস্ত দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকলেই সজল চোখে বলছেন, রতন টাটার মতো ‘মানুষ-বণিক’ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে মিস্টার রতন নওল টাটাকে বিদায় জানাচ্ছি আমরা। একজন সত্যিকারের অসাধারণ লিডার, যাঁর অবদান শুধু টাটা গ্রুপকেই গড়েনি, বরং আমাদের দেশকেও গড়েছে।’ আর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা আমাদের প্রিয় রতনের শান্তিপূর্ণ প্রয়াণের কথা ঘোষণা করছি। তাঁর প্রতি সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে আমরা, তাঁর ভাই-বোন এবং পরিবারের সদস্যরা, সান্ত্বনা খুঁজছি। তিনি আমাদের মধ্যে না থাকলেও, তাঁর নম্রতা এবং উদারতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রেরণা জোগাবে। দুঃখের এই মুহূর্তে আমরা প্রাইভেসির অনুরোধ জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, রতন টাটার দুই বোন এবং সৎ ভাই রয়েছেন। ৮৬ বছরের বিশ্ববরেণ্য পদ্মবিভূষণ এই শিল্পপতি শেষের বছরগুলো কোলাবায় নিজের বাড়িতে থাকতেই পছন্দ করতেন। ওই বাড়ির কাছেই ছিল এসআরটিটি (স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট)-র অফিস। এর মাধ্যমেই সমাজসেবামূলক বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রতন টাটা। ছিলেন এই ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও।